Showing posts with label আমার লেখা গল্প ও ক্যাচাল. Show all posts
Showing posts with label আমার লেখা গল্প ও ক্যাচাল. Show all posts

Friday, February 4, 2022

একটি স্টার ফিল্টার ও একটি বটবৃক্ষের অধিকার

 গাছটা হঠাৎ করেই কথা বলা শুরু করলো। চৈত্র মাসের দুপুর বেলা, কড়া রৌদে চারদিক বাদামী রঙ ধারণ করেছে, পানির অভাবে ফাঁকা জমি গুলো হা করে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। দুপুরের খাওয়া শেষ করে একটা স্টার ফিল্টার জ্বালিয়ে দ্বীপ স্নিগ্ধ বাতাসে শরীর ভেজানোর আশায় বটতলায় এসে দাঁড়িয়েছিল। মিনিট খানেক পরেই গাছটা কথা বলে উঠলো। দ্বীপ অবাক হলো; এতো হওয়ার কথা নয়। তার তেত্রিশ বছর বয়েসে কখনো তো সে কোন গাছকে কথা বলতে দেখেনি! তবে সে শুনেছে; বইপত্রে পড়েছে একসময় নাকি গাছরা কথা বলতো, কবিতা আবৃত্তি করতো, নেচে-গেয়ে মাতোয়ারা হতো, কথার ফুলঝুরি ফুটিয়ে অন্যকে বিমোহিত করার পাশাপাশি নিজের ভাবনার রাজ্যের পালে হাওয়া লাগাতো গাছরা। কিন্তু সে তো অনেক..... আগের কথা; প্রায় চল্লিশ বছর আগের কথা। গাছরা কথা বলতে ভুলে গেছে, এটাই তো স্বাভাবিক! তাহলে আজ এমন কি হলো, এই বটবৃক্ষ কেন হঠাৎ কথা বলে উঠলো! 

গাছটা বলে উঠলো, "তুমি আমার অধিকার খর্ব করছ।" অধিকার! ভ্রু কুঁচকে কিছুক্ষণ অবাক দৃষ্টিতে বট গাছটির দিকে তাকিয়ে রইলো দ্বীপ। এরপর হো হো করে উচ্চ শব্দে হেসে উঠলো সে। হাসি সামলানোর চেষ্টা করতে করতে  বললো, অধিকার শব্দটি এখনো তোমাদের অভিধানে আছে! আমাদের প্রজন্ম তোমাদের কথা বলতেই তো দেখেনি, বিলুপ্ত হতে হতে কোনরকম জড়বৎ তোমরা টিকে আছ এই ধরণীতে। আর সেই তোমরাই অর্থাৎ তুমিই নাকি আজ অধিকারের কথা বলছো! যখন তোমাদের হাত পা ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, তোমরা অধিকারের কথা বলেছিলে? যখন তোমাদের বইপত্র কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, যখন তোমাদের আবৃত্তির ছন্দ ছেদ করা হয়েছিল, তোমরা অধিকারের কথা বলেছিলে? যখন তোমাদের কাঁধের উপর থেকে মাথাটা সরিয়ে নেওয়া হলো, যখন তোমাদের চোখ দুটো উপড়ে নেওয়া হলো, যখন অসুরীয় ভয়ংকর চিৎকারে তোমাদের শ্রবণশক্তি কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত কোমড় ভেঙে যখন তোমাদের মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল; তখন তোমরা নিজেদের অধিকারের কথা বলেছিলে? আজ তুমি অধিকারের কথা বলছো, ধিক তোমার প্রতি। তোমরা নিজেদের কথা ভাবোনি; তোমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কথাও ভাবোনি। 

হঠাৎ দ্বীপের খেয়াল হলো, আচ্ছা গাছটা কথা বলছে কি করে! এর তো মুখই দেখা যাচ্ছে না। তাহলে কি ব্যবহারহীন থাকতে থাকতে গাছদের বাগযন্ত্র বিলুপ্ত হয়ে গেছে? জ্বালানো স্টার ফিল্টারে শেষ টান দিতে দিতে দ্বীপ বললো, অনেক কথাই তো বললে এবার তোমার মুখটা একটু দেখাও, দেখে নিজেকে ধন্য করি। গাছ এবার আর কোন কথা বললো না, কোন উত্তরও দিলো না। যেমনি মুখ লুকিয়ে ছিল; তেমনি মুখ লুকিয়েই থাকলো। বটবৃক্ষেরা হয়তো এভাবেই মুখ লুকিয়ে থাকবে অনন্তকাল! 

প্রবাল ভৌমিক, মীরসরাই, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ইং

Post Comment

মহাজনহাট জমিদার বাড়ি - বিলুপ্ত ঐতিহ্য

 চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই উপজেলার ৪নং ধুম ইউনিয়নের অস্তিত্বহীন ঐতিহ্য মহাজনহাট জমিদার বাড়ি। ১৯০৫ কিংবা ১৯০৬ সালে মৃত্যুবরণ করার পূর্ব পর্যন্ত রায়বাহাদুর গোলক চন্দ্র চৌধুরী এই বাড়িতে থাকতেন এবং এই এলাকার জমিদার ছিলেন বলে জানা যায়। জমিদারি প্রথা রহিত হওয়ার পর রায় বাহাদুর গোলক চন্দ্রের উত্তরসূরীরা এই বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত এই জমিদার বাড়ির দুটি ঘরের অস্তিত্ব থাকার কথা জানা গেলেও বর্তমানে সরেজমিনে পরিদর্শন করে মহাজনহাট জমিদার বাড়ির কোন  চিহ্নই পাওয়া যায় নি; উক্ত জমিদার বাড়ির স্থানে গড়ে উঠেছে কিছু বসতি ও একটি পোল্ট্রি কমপ্লেক্স । 

 ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক রায় বাহাদুর খেতাব পাওয়া জমিদার গোলক চন্দ্র চৌধুরীর জীবন নিয়ে শোনা যায় নানা নাটকীয় ঘটনা। প্রাপ্ত তথ্য মতে জমিদার গোলক চন্দ্র চৌধুরী জন্মগ্রহণ করেছিলেন বর্তমান ফেনী জেলার একটি দরিদ্র পরিবারে। তাঁর মা তৎকালীন সুর বংশীয় জমিদার বাড়িতে কাজ করতেন। গরু নিয়ে মাঠে গিয়ে একদিন গুপ্তধনের সন্ধান পান বাবু গোলক চন্দ্রের পিতা। বদলে যায় তাঁদের জীবন কাহিনী। ১৮৪৫ সালে ফেনী ছেড়ে মীরসরাই এর ধুম এলাকায় এসে জমিজমা কিনে বসবাস করতে শুরু করে গোলক চন্দ্রের পরিবার। 

চট্টগ্রামের অন্যতম বিদ্যাপীঠ 'চট্টগ্রাম কলেজ' প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দুই বছরের মাথায় অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে জমিদার গোলক চন্দ্র চৌধুরী নগদ দশ হাজার টাকা অনুদান দিয়ে ১৮৭১ সালে উক্ত কলেজটি পুনরায় চালু করার ভূমিকা রাখায় বৃটিশ সরকার কর্তৃক তাঁকে রায় বাহাদুর উপাধি দেওয়া হয়।

জানা যায়, মীরসরাই এর ধুম এলাকায় বসতি স্থাপনের পর মহাজনী ব্যবসা করে অল্প সময়ের মধ্যে নিজেদের অর্থ-সম্পত্তি কয়েকগুণ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হন গোলক চন্দ্র চৌধুরীর পরিবার। গোলকেরহাট ও মহাজনহাট বাজার স্থাপনের পাশাপাশি চট্টগ্রামের কালিবাড়ি ও মাঝিরঘাট এলাকায় প্রচুর জমি কিনেন রায় বাহাদুর গোলক চন্দ্র। তাছাড়া রামগড়ে ছিল তাঁদের চা বাগান। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এলাকায় নির্মাণ করেছিলেন ডাকঘর, দাতব্য চিকিৎসালয় ও বিদ্যালয়।

অন্যদিকে চড়া সুদে মহাজনী ব্যবসা করা, প্রজা বান্ধব হয়ে না উঠা, নিজের প্রতিষ্ঠিত বাজার হতে অতিরিক্ত কর আদায় করা, মামলা দিয়ে জনসাধারণকে হয়রানি করাসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ শোনা যায় জমিদার রায় বাহাদুর গোলক চন্দ্রের বিরুদ্ধে। 

প্রায় দেড়শো বছর আগে নির্মিত মহাজনহাট জমিদার বাড়িটি একটি পুরাকীর্তি, হাজারো ঘটনার স্বাক্ষী এবং হতে পারতো আমাদের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। কিন্তু বাংলাদেশের এমন আরো অনেক পুরাকীর্তির মতো এটিও আজ বিলুপ্ত। এভাবেই অযত্নে অবহেলায় হয়তো ভবিষ্যতেও হারিয়ে যাবে বাংলার অনেক পুরাকীর্তি ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।

প্রবাল ভৌমিক, মীরসরাই, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২২ ইং

Post Comment

Saturday, May 8, 2021

মমতার বিজয় ও 'তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি'

তিস্তা নদীর উৎপত্তি ভারতের সিকিমে। সেখান থেকে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অংশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে তা বাংলাদেশে এসেছে। তিস্তা অন্য দেশ থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত হওয়া নদীগুলির মধ্যে চতুর্থ সবচেয়ে বড় নদী। সেচ ও মৎস্য চাষে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিস্তার প্লাবনভূমি বাংলাদেশের ২৭৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে।

বাংলাদেশ  প্রতিবছরের ডিসেম্বর থেকে মে মাসের মধ্যে তিস্তার পানির ৫০ শতাংশ ভাগ চায়। কারণ এসময়ে দেশে পানির যোগান সবচেয়ে কম থাকে। ফলে বাংলাদেশের কৃষকদের একাংশ জীবন-জীবিকা নিয়ে প্রবল সমস্যায় পড়েন। পানি সঠিকভাবে না পাওয়ায় বাংলাদেশের পাঁচটি জেলার ১ লক্ষ হেক্টর জমি আক্রান্ত হয়। 

১৯৮৩ সাল থেকে পানি নিয়ে দরাদরি চলছে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে। ২০১১ সালে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি হওয়ার কথা ছিল ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে। যার সময়কাল ১৫ বছরের। সেই অনুযায়ী তিস্তার ৪২.৫ শতাংশে ভারতের অধিকার ও ৩৭.৫ শতাংশে বাংলাদেশের অধিকার উল্লেখ ছিল।

এই চুক্তির বিরোধিতা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে তা আর সাক্ষরিত হয়নি। ২০১১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে প্রস্তাবিত ঢাকা সফরও প্রথমে রাজি হয়ে এই চুক্তির বিরোধিতা করে শেষে বাতিল করে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বারবার তিস্তা চুক্তি করতে চাইলেও রাজি হননি পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর যেহেতু পানি বন্টনের বিষয়টিতে রাজ্যের উপরে নির্ভরশীল কেন্দ্র, তাই মমতার সম্মতি ছাড়া তিস্তা পানিবণ্টন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে না।

‘সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে’ তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি চূড়ান্ত করা হবে বলে বরাবরের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতেও আশ্বাসের বাণী শুনিয়ে গেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু এবারও পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভায় মমতার পুনঃজয়ে তিস্তা চুক্তি নিয়ে খুব বেশি আশা নেই বলেই ধারণা করা যায়।

Post Comment

Wednesday, April 21, 2021

অভিজ্ঞতা

 ধরুন, বাড়িতে কাঁচা আমের টক রান্না করা হয়েছে। আপনি আপনার ৪/৫ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে টক খেতে বসেছেন। আপনাকে টক পরিবেশন করা হলো একটি বাটিতে করে; আপনার ছেলেকেও একটি বাটিতে করেই পরিবেশন করা হলো কিন্তু তার বাটির নিচে একটা প্লেটও দেওয়া হলো।


কারণটা সিম্পল। আপনি চামুচ দিয়ে সহজেই বাটি থেকে আমের টক খেতে পারবেন কিন্তু আপনার বাচ্চা খেতে গিয়ে এদিক-ওদিক ফেলতে পারে; এমনকি বাটিটা উল্টেও দিতে পারে। তাই তার বাটির নিচের প্লেটটি এক্সট্রা প্রোটেকশন। কিন্তু যে কাজ আপনি সহজেই করতে পারবেন, তাতে আপনার ছেলের এক্সট্রা প্রোটেকশন লাগছে কেন? উত্তরটা হলো 'অভিজ্ঞতা'।


আপনি আপনার জীবনে চামুচ দিয়ে অনেক আমের টক খেয়েছেন, প্রথম প্রথম আপনিও নিখুঁতভাবে খেতে পারতেন না কিন্তু খেতে খেতে আপনি বুঝতে পেরেছেন বা আপনার বোধোদয় ঘটেছে কিভাবে কোনরকম এক্সট্রা প্রোটেকশন ছাড়া নিখুঁতভাবে কাঁচা আমের টক খাওয়া যায়। কিন্তু এমন হলো, আপনি এখনও আমের টক খাওয়ার সময় কাপড়চোপড়ে ফেলে দেন বা মাঝেমধ্যে বাটিও উলটে দেন। যদি হঠাৎ দু'একবার এমন হয়, ধরে নেয়া যাবে অসচেতনভাবে আপনি ভুল করে ফেলেছেন। কিন্তু যদি হরহামেশাই আপনি এমন কান্ড ঘটান, তাহলে ধরে নিতে হবে আপনার বয়স হয়েছে ঠিকই কিন্তু আপনি শিক্ষা অর্জন করতে পারেননি অর্থাৎ আপনার অভিজ্ঞতার ভান্ডারকে আপনি সমৃদ্ধ করতে পারেননি। অভিজ্ঞতাহীন জীবন ব্যর্থতার চূড়ান্ত রূপ।


এখানে 'চামুচ দিয়ে কাঁচা আম খাওয়া' রূপক অর্থ বহন করছে। মূল বিষয় হলো আমরা যদি সময় থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করি, অভিজ্ঞতার ভান্ডার সমৃদ্ধ না করি এবং সে অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারি; যথেষ্ট বয়স বাড়ার পরও আমাদের সাথে অবলা বাচ্চাদের কোন পার্থক্য থাকবে না।

Post Comment

Sunday, April 18, 2021

মানসিকতা!!!

 একবার একজন গাড়ির কোম্পানির সাথে বসে বসে গল্প করছিলাম। একপর্যায়ে তাকে বললাম- ভাই, ভালো গাড়ি টাড়ি পেলে জানাবেন; আপনাদের মতো ব্যবসাবাণিজ্য কিছু করতে পারি কিনা দেখি। সে উত্তরে আমাকে বললো- ভাই, লুঙ্গি কোমরের উপর তুলে মানুষের মা'কে গালি দেওয়ার অভ্যাস আছে? অবাক চোখে তাকিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম- কেন ভাই? সে বলল- ভাই, লুঙ্গি কোমরের উপর তুলে মানুষের মা'কে গালি দেওয়ার অভ্যাস না থাকলে এ ব্যবসা করতে পারবেন না। ড্রাইভার আর স্টাফরা ডেইলি তিনবার করে আপনাকে বেচে চারবার করে কিনবে; লাভতো কিছু হবেই না বরং জমাজাটি যা আছে বছরখানেকের মধ্যে শেষ করে খালি পায়ে ঘরে ফিরতে হবে। 'লেবার ফাংশন' এতো সহজ না ভাই; সে যুক্ত করলো।

আমার পরিচিত একজন লোক 'মীরসরাই ইকোনমিক জোন'- এ 'লেবার' সাপ্লাই দেয়। একদিন কথা প্রসঙ্গে তাকে বললাম- ভাই, টাকা পয়সা তো ভালোই কামাচ্ছেন। উত্তরে সে বললো- ভাই, টাকা পয়সা কামাচ্ছি, ঠিক আছে। তবে বুঝেন তো ভাই 'লেবার ফাংশন'; অনেক ঝামেলা, সুখ নাই। আমি আবার বললাম- কি বলেন, ভাই? কাজ তো করে ওরা, আপনি তো কমিশনের মালিক। আপনার আবার ঝামেলা কিসের? উনি উত্তর দিলেন- ভাই, এটা ছাত্র পড়ানো না, এটা 'লেবার ফাংশন'; এইসব ছোটলোকদের নিয়ে কাজ করতে অনেক ঝামেলা আছে।

সিনিয়র একজন ভাই একটা অফিসে বড় পদে চাকুরী করেন। একদিন উনার অফিসে গিয়ে উনার অনুপস্থিতিতে অফিসের পিয়নের সাথে খুব গল্প শুরু করে দিলাম। গল্প চলতে চলতে আমি ও সেই পিয়ন দু'জন একে অন্যকে ভাই বলে সম্বোধন করছিলাম এবং খুব মন খুলে হাসছিলাম। এমন সময় বড় ভাই আসলেন, পিয়ন রুম থেকে চলে গেল, বড় ভাইয়ের সাথে এই-সেই কথা হচ্ছিল। একপর্যায়ে বড় ভাই বললেন, পিয়ন-টিয়ন এরা হলো 'লেবার' শ্রেণির লোক, এদের বেশি আস্কারা দেওয়া ঠিক না; মাথায় উঠে যায়। ওদেরকে ওদের অবস্থানেই রাখতে হয়- বড় ভাই যোগ করলেন।

এমন হাজারো উদাহরণ আছে। আমি এমনও দেখেছি, কিছুদিন আগে 'লেবার' থাকা লোকটি একটু ভালো অবস্থানে পৌঁছে তার অধীনস্থ 'লেবার' শ্রেণির লোকদের সাথে 'লেবার ফাংশন' এর মতোই আচরণ করেছেন। নিজের অতীত তাকে এতোটুকু কোমল করতে পারে নি।

মূলতঃ আমরা সবাই 'লেবার' কারণ সবাই কারো না কারো অধীনে কাজ করি। আমরা যার অধীনে কাজ করি সে আমাদের 'লেবার' ভেবে 'ডোমিনেট' করে আবার আমাদের অধীনে যারা কাজ করে তাদের আমরা 'লেবার' বানিয়ে 'ডোমিনেট' করি। আমি একবার একটা স্কুলে গিয়ে দেখেছিলাম, প্রধান শিক্ষক নিজে স্কুল ফান্ড থেকে নিয়মিত নাস্তা করেন কিন্তু অন্যান্য শিক্ষকদের নাস্তা করতে হয় নিজের পকেটের টাকা খরচ করে। অর্থাৎ প্রধান শিক্ষক এক্ষেত্রে অন্যান্য শিক্ষকদের 'লেবার' হিসেবে গণ্য করে স্কুল ফান্ড থেকে তাদের নাস্তা করার অধিকার হরণ করেছেন। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে লক্ষ্য করলে এমন 'ডোমিনেটিং চিত্র' চোখে পড়ে। 

তবে সাধারণত 'লেবার শ্রেণি' বলতে আমরা যাদের জানি, তারা একেবারে নিচের পর্যায়ে অবস্থান করে। সকল উৎসের পানি নিচের দিকে গড়াতে গড়াতে সর্বশেষ তাদের উপর গিয়েই সর্বসাকুল্যে পতিত হয়। ফলে তারা 'মোস্ট ডোমিনেটেড'।

নিজ নিজ মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। কে কি করলো না করলো, তা না ভেবে আমরা নিজেরা কি করছি; তা নিয়ে ভাবতে হবে। আমূল পরিবর্তনের সম্ভাবনা বা সুযোগ বা পরিবেশ এখন আর নেই বললেই চলে; নিজের বিবেক দিয়ে নিজেকে ভালোর পথে পরিচালিত করতে হবে। মনের পশুত্বকে ঝেড়ে ফেলতে হবে। এভাবেই হয়তো একদিন সমাজে ঘটে যাবে এক নীরব বিপ্লব। 

আমাদের আশেপাশে কয়জন আছে- যারা দূর্বলের উপর 'ডোমিনেট' করে না? 'লেবার শ্রেণি'কে তাদের প্রাপ্য অধিকার দেয়? 'লেবার'দের পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গণ্য করে? ঘাম শুকানোর আগে 'লেবার' এর পাওনা পরিশোধ করে? সংখ্যাটা খুব কম। কিন্তু মুখে বড় বড় বুলি আওড়ানোর লোকের অভাব নেই। কিন্তু বাস্তবে 'লেবার' হলো আমাদের কাছে একধরণের জঘন্য, নিচু, অস্পৃশ্য, নিকৃষ্ট শ্রেণির কিছু মানুষ। এ ধারণা নিয়েই বেড়ে উঠছে আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম। 

কাল বাঁশখালীতে যা ঘটেছে, তা আমাদের দীর্ঘদিনের সামাজিক ব্যাধির ছোট্ট একটা ফলাফল মাত্র। এমন আরো অনেক ঘটনা নিয়মিত ঘটছে এবং ভবিষ্যতে ঘটার যথেষ্ট কারণ রয়েছে বলে ধারণা করা যায়।  

'লেবার' হত্যার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

Post Comment

Saturday, April 17, 2021

আত্মসমালোচনা

 যারা বাধ্য হয়ে বা পেশাগত প্রয়োজনে বের হচ্ছেন, তাদের কথা ভিন্ন। তারা ঘর থেকে বের হন দুঃশ্চিন্তা নিয়ে, তাদের নিয়েও দুঃশ্চিন্তায় থাকে তাদের পরিবার। মনে মনে নিজেদের অপরাধী ভাবে এদের অনেকে। ভাবে, এমন কাজ বা চাকুরী না করে অন্যকোন পেশায় থাকলে এই ঘোর দূর্যোগে ঘর থেকে বের হতে হতো না, তার কারনে ঘরের অন্য সদস্যদের সুরক্ষা সেক্রিফাইজ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতো না। সারাদিন যতটা সম্ভব সাবধানতার সাথে দায়িত্ব পালন শেষে ঘরে ফিরে সম্ভাব্য সকল স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করার পরও তাদের নিজের কাছে একটা খুঁতখুঁতে অনুভূতি কাজ করে। কিন্তু এদের সংখ্যা কতো ভাগ? আর এদের কি সুযোগ বা মানসিকতা থাকে এখানে সেখানে বাউন্ডুলের মতো ঘুরে বেড়ানো? 


স্বাভাবিকভাবেই বেশিরভাগ মানুষ একালে প্রতিদিন বাজার-সদাই করে না। কেউ সপ্তাহে, কেউবা পাক্ষিকভাবে।


প্রায় প্রতিদিন ফেসবুকে দেখি, অমুক_তমুক নামক কিছু লোক অলিগলির বা বাজারঘাটের ছবি তুলে নিজের টাইমলাইন থেকে পোস্ট করে ক্যাপশনে কটাক্ষ বা ব্যঙ্গ করে লেখে, 'দেখুন কেমন চলছে লকডাউন।' বা 'এর নাম লকডাউন?' বা 'এমন লকডাউন দেওয়ার চেয়ে না দেওয়া কি ভালো নয়?' বা ' ব্যার্থ লকডাউন।' বা 'লকডাউন বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যার্থ।'

প্রশ্ন হলো, সে কেন ঘর থেকে বের হলো? তাকে কে এ দায়িত্ব দিয়েছে? সে কি লকডাউন নিয়ম ভঙ্গ করলো না? কোন কাজ থাকলে ছবি তোলায় মনযোগ না দিয়ে, দ্রুত কাজ শেষ করে ফিরে আসা প্রয়োজন ছিল না? সে তার পরিবারকে কোন উদ্দেশ্যে ঝুঁকিতে ফেললো? নাকি এধরণের লোকরা নিজেকে করোনার চেয়ে বেশি শক্তিশালী মনে করে??


আত্মসচেতনতা ছাড়া কোন লকডাউন-ই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে না; হোক সেটা শিথিল বা কঠোর। আর অন্যের সমালোচনার চেয়ে আত্মসমালোচনা বেশি জরুরি।

Post Comment

Wednesday, April 14, 2021

কপটতা

 সম্প্রতি নিউজফিডে পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ উদযাপন সম্পর্কিত কিছু মতপার্থক্য দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এক পক্ষের বক্তব্য হলো, এটি সকল বাঙালীর একটা সর্বজনীন উৎসব। অন্য একটি পক্ষের মতে, পহেলা বৈশাখ মোটেও কোন সর্বজনীন উৎসব নয় বরং এটি একটি ধর্মভিত্তিক নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের উৎসব। তাই ২য় পক্ষ কোনভাবেই রাষ্ট্রীয়ভাবে পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ উদযাপনের পক্ষে নয়।

বর্তমান প্রজন্মের একটা বিশাল অংশ ইতিহাস পড়ে না বা জানতেও চায় না। তারা কোন একটি আদর্শের অন্ধ ভক্ত হতে পছন্দ করে এবং ওই আদর্শকেই একমাত্র উপাস্য বলে মনে করে একটি কুয়ায় আবদ্ধ হয়। 

এবার আসি আসল কথায়। বাংলাদেশ সরকার ২০১৬ সাল থেকে প্রতি বৈশাখে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের জন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বৈশাখী ভাতা প্রদান করে আসছে। এর অনুকরণে বেশ কিছু বেসরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানও মহাধূমধামে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি বৈশাখে বৈশাখী ভাতা প্রদান করছে। 

উপরোক্ত ২য় পক্ষ অর্থাৎ যারা বাংলা নববর্ষকে সর্বজনীন বা নিজেদের উৎসব বলে মনে করেন না এবং বিশ্বাস করেন যে, এটি রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপিত হওয়া উচিত নয়; কর্মক্ষেত্রে তারা কি বৈশাখী ভাতা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকেন? না, এপর্যন্ত এমন কোন তথ্য পাওয়া যায় নি। এটা কি স্ববিরোধিতা নয়? যে উৎসবের অস্তিত্বই তারা বিশ্বাস করে না, সে উৎসব উদযাপনের জন্য ভাতা গ্রহণ করা কতটা যৌক্তিক? 

আর যারা এখনো শিক্ষার্থী এবং বাংলা নববর্ষ উদযাপনের বিরোধী দলের সদস্য, তারা শিক্ষাজীবন শেষ করার পর নিশ্চয়ই এমন কোন চাকুরী পেতে চাইবে না যেখানে বৈশাখী ভাতা দেওয়া হয়; সেটা যতই লোভনীয় চাকুরী হোকনা কেন!!!

Post Comment

Thursday, January 7, 2021

নিমাই-তোতাই

 তাহাদের ছোট 'মন'

থাকে প্রতীক্ষায়-

এই বুঝি এ'রে-অ'রে 

জাপটে ধরা যায়।


সুঁচাগ্র ভ্রম যদি ধরে আঁখি-পটে

'চার-হস্ত' এক করি নাচিয়া-কুদিয়া মরে-

ভাতেরে আজ অন্ন ক'ওয়া হে'ন লোক ভাই

অতীত ভুলিয়া গিয়া 'ইয়া' চোখে চায়।


অর্থ-প্রাপ্তি দেয়নি তা'দের মনো-বুদ্ধি'র প্রসারতা

নিজ ভূবণ রচিয়া নিজেই সাজে রাজা

মান-সম্মান স'বি তা'রা অর্থে প্রাপ্তি দেখে

ভাবিতেছে হে'ন মহৎপ্রাণ(!) নাই এ'রাজ্যে।


এ'সব অর্বাচীনের ভীড়ে 'নিমাই-তোতাই'

চোখ বুজে প্রশ্ন ভাবে-

পালাবার পথ নাই???

Post Comment

তরী

 জপিলাম মালা তাঁহারে স্মরিয়া 

গাঁথিলাম কাঁটা কন্ঠে

নয়ন বুজিয়া ভজিলাম নাম

তুলিলাম সুর ছন্দে।


আপন ভাবিয়া আপন হস্তে

লইলাম চরণ ধূলা

চন্দন আর পুষ্প ছিটাইয়া

সাজাইলাম প্রেমের ভেলা।


গম্ভীর মুখে পানসা চাহনি

বীণায় নাহি উঠে সুর

ভাবনার জগতে কিয়ৎ ভাবিয়া

দৃষ্টি ফেলিলেন বহু দূর।


ইহাতে সূচনা নব উল্লাস

রথযাত্রার তান

জমিয়া উঠিল মহা উৎসব

দাঁড় টানিয়া গাহিলাম গান।


তরী ভাসিল মাঝ দরিয়ায়

মাঝির জয়গান

এতোদিনের আরাধনা 

পাইলো পূর্ণ প্রাণ। 


ধূপ দীপ আর নৈবদ্য ঘ্রাণে 

মৌ মৌ করিছে তট

তাঁহার ভজনে দুই হাত তুলিয়া

মানিয়া নিয়াছি বট।


তাঁহার কথা লোকমুখে যবে 

ছড়াইল সারা বেলা

বুঝিলেন তিনি পাইয়া গিয়াছেন

যশ-খ্যাতি-প্রেম মেলা।


নতুন ফুলের পূজা পাইতে

মন তাঁহার হইলো ব্যাকুল

একূল ছাড়িয়া ডিঙা ভাসাইয়া

চলিলেন অন্য কূল।


চোখের জলেতে হৃদয়ের টানে

নাহি দিলেন তিনি সাড়া

অন্য মুখের জপ নাম শুনিতে

হইলো ভীষণ তাড়া।


নব তরীতে নব সুর মাখিয়া

ধরিবেন নতুন গান

তুষ্ট হইলে সে তরী ছাড়ি

আবার তুলিবেন পাল।


নব নব পুষ্প ধূপ দীপ পাইয়া

রহিবেন তিনি সুখে

তাহার প্রেমে ভাসিলো যারা

ভাসিলো কুলহীন দুখে।


এই করিয়া তাঁহারা আজীবন 

বিজয়ের গান গায়

অন্যের মুখের ভজন হইয়া

অন্যরে ছাড়িয়া যায়।।


তরী

প্রবাল ভৌমিক

Post Comment

যন্ত্র-মানব

 'যন্ত্র-মানব' এর পক্ষে অনেক কিছুই করা সম্ভব, যা মানুষের পক্ষে করা সম্ভব নয়। সময়ের প্রয়োজনে মানুষ এখন যান্ত্রিক হচ্ছে, জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে মানুষের চিন্তা চেতনা। এ পরিবর্তন রোধ করা আপাতদৃষ্টিতে সম্ভব নয়। তবে প্রকৃতি চাইলে তার আপন ক্ষমতাবলে শুধুমাত্র মানুষ নয় সমগ্র সৃষ্টিকে তার নিজের মতো করে পুনরায় সাজিয়ে তুলতে পারে। সেটা ভিন্ন ব্যাপার। কিন্তু মানুষ সহজাত ভাবেই কখনো পিছনে ফিরে যেতে চায় না। বিরতিহীন এগিয়ে যাওয়াই মানব সন্তানের ধর্ম। এই এগিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রতিটি ধাপে প্রতিনিয়ত ঘটছে পরিবর্তন। 


যান্ত্রিক হওয়া বলতে শুধুমাত্র যন্ত্র নির্ভর হওয়াকেই বোঝানো হয় না। প্রকৃতির কোমল স্পর্শ এড়িয়ে যন্ত্র নির্ভর হওয়ার পাশাপাশি মানবিকতা হারানোকে এক কথায় যান্ত্রিকতা বলা যেতে পারে। ক্রমাগত পরিবর্তনের ধারায় মানুষ যন্ত্র নির্ভর হতেই পারে কিন্তু তার সাথে মানবিকতা কেন হারাবে? উত্তরটা এমন হতে পারে, আদিমকাল থেকেই প্রাকৃতিকভাবে মানুষের মাঝে দুটো বোধ কাজ করে বলে ধারণা করা হয়- ভালো বোধ ও খারাপ বোধ। ভালো বোধের চেয়ে খারাপ বোধই মানুষের মাঝে বেশি সক্রিয় থাকে। পরিবর্তনের সাথে সাথে এ দুটি বোধও পরিবর্তিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই 'দূর্বল' ভালো বোধ বেড়েছে গানিতিক হারে অন্যদিকে 'শক্তিশালী' খারাপ বোধ বেড়েছে জ্যামিতিক হারে। ফলাফলে খারাপ বোধের চাপায় অতল গহবরে হাবুডুবু খাচ্ছে ভালো বোধ। ফলে মানুষ হারিয়েছে তার মানবিকতা। 


বাংলাদেশের 'এনটিভি' টিভি চ্যানেলের সূচনা লগ্নে উক্ত চ্যানেলের মূল স্লোগান প্রনয়ণের দায়িত্ব পড়ে প্রখ্যাত টিভি উপস্থাপক জনাব হানিফ সংকেত এর উপর। এনটিভি'র "সময়ের সাথে আগামীর পথে" স্লোগানটি প্রনয়ণ করে হানিফ সংকেত বলেছিলেন, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে না পারাটা আমাদের ব্যার্থতা। অর্থাৎ সময়ের সাথে আমাদের পরিবর্তিত হতেই হবে। আমরাও তাই হচ্ছি। তাহলে গোলটা কোথায়? অবশ্যম্ভাবী এই পরিবর্তনের ধারায় এগিয়ে যেতে যেতে মানবিকতা হারা কেন হচ্ছি আমরা? কেন ভালো বোধগুলো আমাদের খারাপ বোধকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না? পরিবর্তনকে আমরা অস্বীকার করতে পারবো না, সাথে সাথে অমানবিক হওয়াও কি আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক? 


আমরা কথায় কথায়ই বলি, হাতি নিজের শরীর দেখে না। হাতিদের হাসি আমরা বুঝি না। তা নাহলে আমাদের এমন কথা শুনে তাদের অট্ট হাসিতে হয়তো আমরা লজ্জিত হতাম। আসলে মানুষই তার নিজের শরীর দেখে না অর্থাৎ নিজের কপটতা, নিজের চরিত্রহীনতা, নিজের দূর্বলতা- এসব মানুষের নজড় এড়িয়ে যায়। তারা সবসময় অন্যের অনুশীলনে তৃপ্তি বোধ করে, অন্যের সমালোচনায় মনে পাশবিক আনন্দ অনুভব করে, অন্যের ত্রুটি অন্বেষণে সবসময় সচেষ্ট থাকে। এতো কিছুর মাঝে নিজের দিকে নজড় দেওয়ার সময় কোথায়! এর ফলে সে নিজের বিবেক'কে জাগ্রত করতে পারে না। বিবেক মানুষের মনের এন্টিবডি, যা খারাপ বোধকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এতে করে অমানবিক হওয়ার পথে আর কোন বাধাই থাকে না।


রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, দূরে থাকার আনন্দই হলো চিঠি। আজকের দিনে চিঠির জায়গা দখল করেছে এসএমএস, ই-মেইল ইত্যাদি। এতে দোষের কি আছে? কবি গুরুর জীবদ্দশায় এসব আবিষ্কার হলে তিনিও নিশ্চয়ই এ পরিবর্তন মেনে নিতে দ্বিধা করতেন না। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বস্তুগত যন্ত্রের উপর নির্ভরশীলতা স্বাভাবিক। কিন্তু মানসিক যান্ত্রিকতা কি গ্রহণযোগ্য?

Post Comment

কেন বিনয়ী হবেন (না)

 কেন বিনয়ী হবেন (না)


বিনয় একটি মহান গুন। বলা হয়ে থাকে, বিদ্যা বিনয় দান করে। যারা বিনয়ী তারা জীবনে সফলতার চরম উৎকর্ষ লাভ করেন বলেও অনেকের ধারণা। অভিধানিকভাবে বিনয়ের অর্থ মিনতি, নম্রতা, শিক্ষা। সমাজ পরিবর্তনশীল। পরিবর্তিত সমাজের স্রোতধারায় অনেক ক্ষেত্রেই পরিবর্তন লক্ষিত হয়, অনেক তত্ত্বই ভুল প্রমাণিত হয়, অনেক অগ্রহণযোগ্য ব্যাপার গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠে আবার কিছু কিছু ব্যাপার সগৌরবে নিজ স্থান দখল করে থাকে। সময় ও সমাজের পরিবর্তনের সাথে সাথে বিনয় নিয়েও নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে কিনা জানি না। নিচে কেন আমরা বিনয়ী হবো (না), বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করা হল।


বিনয়ী হলে আপনি ভদ্র হবেন। 

কিন্তু আপনার ভদ্রতার জন্য আপনি কোথাও মূল্যায়িত হবেন না। বরং আপনাকে দূর্বল ভাবা হবে। প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার পাশাপাশি কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হবে।


বিনয়ী হলে আপনি সত্যবাদী ও ন্যায়পরায়ণ হবেন।

কিন্তু বর্তমান সমাজে এসব সদাচরণের কোন মূল্যায়ন নেই। বরং আপনাকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করা হবে। আপনাকে অকর্মণ্য ভাবার পাশাপাশি সমাজে অচল 'মাল' হিসেবে গণ্য করা হবে।


বিনয়ী হলে আপনি নিচু গলায় কথা বলবেন।

কিন্তু ব্যাপারটা অনেকেই ইতিবাচকভাবে নেবে না। বরং আপনাকে 'কম-জোর' মনে করা হবে। কাপুরুষ মনে করার পাশাপাশি আপনার কথা বলার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে।


বিনয়ী হলে আপনি গুরুজনদের সামনে মাথা নিচু করে কথা বলবেন।

কিন্তু আপনার এ বিনয় সঠিক ব্যাখ্যা পাবে না। বরং আপনাকে ভীতু মনে করা হবে। দূর্বল চিত্তের অধিকারী ভাবার পাশাপাশি আপনাকে উচিত কথা বলতে না পারার লোক হিসেবে আখ্যা দেয়া হবে। 


বিনয়ী হলে আপনি অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দিবেন। 

কিন্তু এতে আপনার মূল্যায়ন বাড়বে না। বরং আপনি বিতর্কিত হবেন। সিদ্ধান্ত নিতে অক্ষম এমন অভিযোগের পাশাপাশি আপনার উপর অযৌক্তিক মতামত চাপিয়ে দেওয়া হবে।


বিনয়ী হলে আপনি অন্যকে সম্মান করবেন। 

কিন্তু আপনি সম্মানিত হবেন না। বরং আপনাকে অসহায় ভাবা হবে। অতি ভক্তি প্রদর্শনের অভিযোগের পাশাপাশি কোন উদ্দেশ্য হাসিলের পাঁয়তারা করছেন ভেবে আপনার প্রতি সবাই বাঁকা চোখে তাকাবে।


বিনয়ী হলে আপনি নিরহংকারী হবেন।

কিন্তু আপনি এর প্রতিদান পাবেন না। বরং আপনাকে অযোগ্য মনে করা হবে। আপনার কোন গুন নেই, এমন ভাবার পাশাপাশি আপনাকে অজ্ঞানী ভাবা হবে।


বিনয়ী হলে আপনি কাউকে হেয় করবেন না।

কিন্তু এটা যে একটা বিনয় তা কেউ ভাববে না। বরং আপনাকে হেয় প্রতিপন্ন করা হবে। আপনাকে গুরুত্বহীন ভাবার পাশাপাশি উচিত কথা বলতে না পারার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হবে। 


বিনয়ী হলে আপনি নিঃসংকোচে ভুল স্বীকার করবেন।

কিন্তু আপনি প্রশংসিত হবেন না। বরং আপনাকে দূর্বল চিত্তের অধিকারী ভাবা হবে। অকর্মণ্য ভাবার পাশাপাশি আপনাকে বর্তমান সমাজে অনুপযুক্ত ভাবা হবে। 


বিনয়ী হলে আপনি মানুষের উপকার করতে চাইবেন ও কৃতজ্ঞ হবেন। 

কিন্তু প্রয়োজনে আপনি কাউকে পাশে পাবেন না। বরং আপনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হবেন। পেছনে আপনার বদনাম করার পাশাপাশি আপনাকে গালাগাল করতেও অনেকে দ্বিধা করবে না।


বিনয়ী হলে আপনি আইনকে শ্রদ্ধা করবেন।

কিন্তু আপনি মূল্যায়িত হবেন না। বরং আপনার প্রতি সবাই বিস্ময় ও বিরক্তি প্রকাশ করবে। যথাযথ বাঙালি হতে পারেননি, এমন অভিযোগের পাশাপাশি আপনাকে ন্যাকামো'র দায়ে দন্ড প্রদান করা হবে।


এখন সিদ্ধান্ত আপনার। আশাকরি আপনি বিনয়ী হবেন (না)।

Post Comment

অতৃপ্ত বাসনা

 অতৃপ্ত বাসনা


ছেলের নাম আবদুর রহমান। সবাই রহমান নামেই ডাকে। কিন্তু মা হোসনেয়ারা বেগম কখনো তাকে রহমান নামে ডাকেন না, তিনি সবসময় ছেলেকে আবদুর রহমান নামেই ডাকেন। এক কন্যা সন্তানের পর হোসেন চৌধুরী ও হোসনেয়ারা বেগমের কোল জুড়ে আসে আবদুর রহমান। হোসনেয়ারা বেগম বেশি ভালোবাসেন ছেলেকে। ছোটবেলা থেকে এক পলকের জন্য ছেলেকে চোখের আড়াল করতে তিনি নারাজ। 


আবদুর রহমানের বয়স এখন চার বছর। বর্তমানে তারা তিন ভাই, তিন বোন। সংসারে বেশ কয়েকজন নতুন অতিথির আগমন স্বত্তেও রহমান এখনো তার মায়ের কাছে সেই আদরের আবদুর রহমান। মা স্বভাবতই সকল সন্তানের প্রতি তাঁর স্নেহ, মমতা, ভালোবাসা সমানভাবে বিলিয়ে দিয়েছেন কিন্তু আবদুর রহমানের স্থানটি অন্য কোন ভাই বোন দখল করতে পারেনি। রহমান তার মায়ের কাছে কাছেই থাকে। মায়ের কোলে মাথা রেখে প্রতিদিনই মায়ের অকৃত্রিম স্নেহ-ভালোবাসায় ধন্য হয় সে। অন্যান্য ভাইবোনরা মাঝেমধ্যে মায়ের বকুনি খেলেও হোসনেয়ারা বেগম কখনো আবদুর রহমানের প্রতি কঠোর হতে পারেন না। এক শীতল, স্বর্গীয়, গভীর অনুভূতি নিয়ে তিনি তাকান রহমানের দিকে৷ 


হোসেন চৌধুরী সাহেব বংশধর মানুষ। গঞ্জে বড় ব্যবসা সাথে ক্ষেতখামার। হোসেন সাহেবের দুটো শখ; টাকা উপার্জন ও নিজের বংশবৃদ্ধি। প্রতি বছর ব্যবসায় বড় অংকের লাভের পাশাপাশি একটা করে নতুন সন্তানের মুখ না দেখলেই নয়। বংশরক্ষাই বিয়ের একমাত্র উদ্দেশ্য বলে হোসেন সাহেবের দৃঢ় বিশ্বাস। বিয়ের ছয় বছরের মাথায় ব্যবসার লাভের টাকায় তিন কানি সম্পদ কিনার পাশাপাশি হোসনেয়ারা'র কোলে ছয়টি ফুটফুটে সন্তান তুলে দিতে পেরে হোসেন সাহেব অত্যন্ত গর্বিত। অন্যদিকে চৌদ্দ বছর বয়সে হোসেন সাহেবের বউ হয়ে এ বাড়িতে আসা হোসনেয়ারা বেগম প্রতি বছর বছর স্বামীর মুখে হাসি ফোটাতে ফোটাতে আজও ঠোঁটের কোনে মুচকি হাসার বৃথা চেষ্টা করেন। কুড়ি বছর বয়সী হোসনেয়ারা বেগমকে ইদানীং চল্লিশোর্ধ্বই মনে হয়। তবে তিনি মন খারাপ করেন না। চৌধুরী বাড়িতে বিয়ে হয়েছে এটাই তো তাঁর সাত কপালের ভাগ্য! যখন খুব বেশি মন খারাপ হয় আবদুর রহমানকে কোলে নিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে তিনি গুনগুন করে গান করেন। মন ভালো হয়ে যায়।


বছরখানেক পরের কথা। একদিন ভোরবেলা প্রচন্ড শোরগোলের মধ্যে আবদুর রহমানের ঘুম ভাঙে। বাড়িতে অনেক মানুষের সমাগম দেখতে পেয়ে চোখ ডলতে ডলতে রহমান ঘর থেকে বেরিয়ে এসে উঠোনে একটা পাটিতে তার মাকে শুয়ে থাকতে দেখে। পরিবারের সদস্য ও নিকট আত্মীয়রা রহমানের মাকে ঘিরে বিলাপ করছেন। হোসেন সাহেব একপাশে দাঁড়িয়ে চোখের জল মুছছেন। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে কিছুক্ষণ মায়ের বুকে মাথা গুঁজে মাকে জড়িয়ে ধরে থাকা রহমানের দীর্ঘদিনের অভ্যাস, মাও তাকে পরম মমতায় দু'হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে চুমু খান। মায়ের আদরের আবদুর রহমান কারো দিকে তেমন লক্ষ্য না করে উঠোনে পাতা পাটিতে শুয়ে থাকা মায়ের বুকে মাথা গুঁজে দিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরলো। চারদিকের বিলাপের ধ্বনি উচ্চ হলো। হোসেন সাহেব সশব্দে হাউমাউ করে উঠলেন। কিন্তু আজ আর মমতাময়ী মা চোখ খুললেন না, দু'হাতে জড়িয়ে ধরলেন না তাঁর প্রিয় সন্তান আবদুর রহমানকে।


আবদুর রহমান কি কখনো জানবে তার বাবার বংশের সপ্তম প্রদীপ জ্বালতে গিয়ে মাত্র একুশ বছর বয়সে নিজেই চিরতরে নিভে গেলেন তার মমতাময়ী মা?

Post Comment

বাংলাদেশের এক প্রান্তের একটি ছোট গল্প

 সন্ধ্যা প্রায় সাতটা। আষাঢ়ে বৃষ্টি হচ্ছে। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া রায়হান সুর করে পড়ছে- আমাদের দেশের নাম বাংলাদেশ। এটি একটি ছোট  কিন্তু জনবহুল দেশ................। মিসেস ফরিদ রান্নার জোগাড় করছেন; পাশাপাশি ফুটো হয়ে যাওয়া টিনের চালের যেসব অংশ দিয়ে ঘরে পানি পড়ছে সেখানে কিছু পাতিল বসিয়ে দিচ্ছেন। ফরিদ সাহেব বারান্দায় চেয়ার পেতে বসে ধূমপান করতে করতে ভাবছেন।

- কতবার বললাম বৃষ্টির দিন আসছে, একজন মানুষ এনে টিনের চালটা মেরামত করার জন্য। কত জায়গায় আর পাতিল বসাব, পাতিল সব শেষ হবার অবস্থা। এভাবে ঘরে থাকা যায়?

স্ত্রীর কথা শুনে ফরিদ সাহেব শেষ টান দিয়ে সিগারেটটা উঠোনে ফেললেন।

- রফিককে বলেছিলাম, সে তো আসলো না। দেখি কাল একবার যাব ওদিকে।

রায়হান একটু থেমে মা বাবার কথা শুনে আবার পড়া শুরু করলো- আমাদের দেশের নাম বাংলাদেশ। এটি একটি ছোট  কিন্তু জনবহুল দেশ................।


পরেরদিন ফরিদ সাহেব নিজের সাথে করে রফিক মিস্ত্রিকে নিয়ে আসলেন। রফিক টিনের চালে উঠে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলো।

- টিন তো কাকা সব গেছে। এখন আপাততঃ পুটিং লাগিয়ে দেওয়া যাবে। কিন্তু টিন পাল্টাতে হবে। কমপক্ষে ছয়টা টিন লাগবেই। 

ফরিদ সাহেবের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়লো। এই মুহূর্তে এতো টাকা জোগাড় করা কষ্টসাধ্য। 

- আচ্ছা, এখন পুটিং লাগিয়ে দাও। আমি টিন এনে তোমাকে খবর দিব।

- জ্বী কাকা।

রায়হান ছাতা মাথায় উঠোনে দৌড়াদৌড়ি করতে দিয়ে পা পিছলে পড়ে গেল। মিসেস ফরিদ ছুটে গেলেন।

- এ ছেলে আমাকে শান্তি দিবে না।

- কেটেছে কিনা দেখ। কাটলে একটু স্যাভলন দিয়ে ধুয়ে মলম লাগিয়ে দাও।


ফরিদ সাহেব বেতন পাবেন আরো বারো দিন পর। অল্প বেতনের চাকুরী করেন। সংসারে টানাপোড়ন লেগেই থাকে। চালের টিনগুলো অনেক আগেই পাল্টাবেন ভেবেছিলেন। কিন্তু সংসারের ব্যয় নির্বাহ করে, রায়হানের লেখাপড়ার খরচ নির্বাহ করে মাস শেষে হাতে আর কিছুই থাকেনা। কিন্তু এবার যেভাবেই হোক টিনগুলো পাল্টাতে হবে। ঘরে বৃষ্টি হলেই যে পরিমাণ পানি পড়ে তাতে কয়েকদিন পর ঘরে থাকাই দুস্কর হয়ে যাবে। 


মাস শেষে বেতনের টাকা তুলে মুদি দোকান, সবজি দোকানের দেনা শোধ করে এবং কিছু মাছ-মাংস কেনার পর যে পরিমাণ টাকা অবশিষ্ট রইলো তাতে টেনেটুনে ছয়টা টিন কেনা যেতে পারে কিন্তু হাতে আর অবশিষ্ট কিছুই থাকবে না। ফরিদ সাহেব টিনের দোকানে গিয়ে দুটি টিন কিনে এনে ঘরে রাখলেন। পরের দু'মাসে দুটি করে আরো চারটি টিন কিনে রাফিককে ডেকে এনে কাজ করাবেন।


- আর পারি না। চালের উপর লক্ষ লক্ষ ছিদ্র হয়ে আছে। কত জায়গায় পাতিল বসানো যায়। ছয়টা টিন কিনতে কিনতে বৃষ্টির দিনই শেষ হবে। রান্না করতে করতে অর্ধেক ভিজে গেলাম। খাটের উপরও পানি পড়তে শুরু করেছে। 

- খাটটা একপাশে সরিয়ে নিতে হবে। আগামী মাসে আরেকটু সাশ্রয় করে চারটা টিন কেনা যায় কিনা দেখবো। মাস শেষ হোক।


রায়হান একটু থেমে মা বাবার কথা শুনে আবার পড়া শুরু করলো- আমাদের দেশের নাম বাংলাদেশ। এটি একটি ছোট  কিন্তু জনবহুল ও দরিদ্র দেশ................।


> বাংলাদেশের এক প্রান্তের একটি ছোট গল্প 

> প্রবাল ভৌমিক

> জুন'২০২০

Post Comment

নষ্ট সমাজ

 কয়েকদিন আগে রাস্তায় একজনকে দেখতে পাই। একা নয়; পুরনো বন্ধুরা সব সাথেই ছিল। মাঝ রাস্তায় অট্টহাসি সমেত সরব - সমবেত উৎফুল্লতা। কোন পরিবর্তন চোখে পড়েনি। নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। একেবারে কাছাকাছি এসে নিশ্চিত হয়ে চোখদুটো নিচের দিকে নামিয়ে চলে গেলাম। এর কিছুদিন পরই দেখতে পাই দ্বিতীয়জনকে। সে শার্টের উপরের দিকের দুটি বোতাম খুলে দিয়ে বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। রীতিমতো নিজের চোখের উপর অবিশ্বাস হলো। কিন্তু খুব কাছে আসতেই আমার অবাক নয়নে নয়ন রেখে সে যখন আমার কুশলাদি জানার আগ্রহে মুখ খুলছিল, তখনই অন্যদিকে চোখ ফিরিয়ে সোজা হেঁটে চলে গেলাম। 


যেদিন গণধর্ষণের কথাটা কাগজে পড়ি, সেদিনই দুজনকে চিনতে পেরেছিলাম। বাচ্চা ছেলে দুজনই। ভয়াবহতা হচ্ছে, মেয়েটিকে ব্ল্যাকমেইল করে মাসের পর মাস দুজন মিলে ইচ্ছেমতো ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে যাচ্ছিল। একপর্যায়ে প্রশাসনের সহযোগিতায় দুজনই হাতেনাতে ধরা পড়েছিল। মামলা হলো, দুজনই হাজতবাসী হলো; আমরা মনে মনে শান্তি পেলাম।


এ ঘটনার আগে তারা পনের-বিশ জনের সংঘবদ্ধ গ্রুপ হয়ে চলাফেরা করতো। উল্লেখিত দুজনের একজন ছিল ওই গ্রুপের মূল নেতা। ইভটিজিং ছিল এই গ্রুপের প্রতিটি সদস্যের নেশা। সকাল, দুপুর, বিকাল, এমনকি রাত দশটার পরেও তাদের বাজারে দেখা যেত। ধারণা করি, তাদের মা-বাবা তাদেরকে ভায় পায়। তাই তাদের উপর কোন পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ নেই। তারা কতিপয় তথাকথিত বড় ভাইয়ের ঢাল হিসেবে তাদের আশ্রয়ে লালিত-পালিত হচ্ছিল। এককথায়, এক এক জন বাজারের রংবাজ হিসেবেই গড়ে উঠছিল; যারা ধরাকে সরা জ্ঞান করতে অভ্যস্ত ছিল না। 


গণধর্ষণ মামলায় গ্রুপের দুই সদস্য গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুরো গ্রুপের দৌরাত্ম্য লক্ষনীয়ভাবে কমে এসেছিল। ভেতরে ভেতরে আঁচ করতে পারছিলাম, সেই বড় ভাইরা আরো উপরের বড়ভাইদের সহযোগিতা নিয়ে এই দুই ধর্ষকের জামিন করানোর জন্য নীরবে কাজ করে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ফলাফল এলো; জামিন হলো। তারা হাজত থেকে বের হয়ে আবার গ্রুপ চাঙা করা শুরু করেছে, দ্বিধাহীনভাবে বুকচেতিয়ে সদলবলে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। যে সাংগঠনিক সাইনবোর্ড তারা ব্যবহার করছে, সেই সংগঠনের এমন কোন সুবিবেচক-বোধসম্পন্ন কান্ডারী নেই, যিনি অন্ততঃ এই দুজনের ঘরে থাকা নিশ্চিত করতে পারেন? যারা জামিন করাতে পেছন থেকে নীরবে কাজ করেছেন,তারা? আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে তাদের এড়িয়ে চলছি, তাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করছি; এটাই আমার প্রতিবাদ। কিন্তু আমাদের সমাজে সমাজপতি রয়েছেন, বর্তমান সময়ের অনেক হিট বড়ভাই রয়েছেন, সাংগঠনিক কান্ডারী রয়েছেন; তাদের তো আরো কিছু করার আছে। কেন তাঁরা দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন? এমন বেহায়াপনা, এমন নির্লজ্জতা, এমন দায়িত্বহীনতা নিয়ে কি একটি সমাজ টিকতে পারে?


গত দুমাসে বহুবার ওই দুই ধর্ষকের মুখোমুখি হয়েছি। নতুন উদ্যমে বাজার চষে সদলবলে আবার তারা রংবাজি শুরু করেছে।  অত্যন্ত ঘৃণাভরে এড়িয়ে চলেছি। 

আচ্ছা, তাদের যৌন লালসার তৃপ্তি ঘটাতে ওই মেয়েকে যখন তারা ডেকে পাঠাতো, তখন মেয়েটার কি মানসিক অনুভূতি হতো? দুটি ছেলে একজনের পর আরেকজন যখন একইস্থানে, একই সময়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ করতো, মেয়েটির চোখ বেয়ে কি তখন জল পড়তো না? প্রতিবার ধর্ষিত হয়ে আসার পর আবার কখন ডাক পড়বে, এই ভয়ে কি মেয়েটি নির্ঘুম রাত কাটাতো না?

যারা বিভিন্নভাবে এই ধর্ষকদের পক্ষ নিয়েছেন, নীরবে, পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে তাদের সহযোগিতা করেছেন, এমনকি যাদের আশ্রয়প্রশ্রয়ে গণধর্ষণ মামলার জামিনে থাকা আসামী হয়েও তারা বুক ফুলিয়ে বাজারেঘাটে ঘুড়ে বেড়ানোর মতো লজ্জাহীন ও দুঃসাহসিক কাজ করে যাচ্ছে; তারা কি ভাবছেন? আপনাদের উপর অভিশাপ পড়বে না? অবশ্যই পড়বে। ওই ছোট্ট মা'মনির প্রতিক্ষণের মানসিক যন্ত্রণা, প্রতি ফোঁটা চোখের জল, প্রতিটি নির্ঘুম রাতের দীর্ঘশ্বাস অচিরেই বিষধর সাপের মতো দিনরাত আপনাদের বিদ্ধ করবে। এই সমাজে নৈরাজ্য তৈরি করার অধিকার সৃষ্টিকর্তা কাউকে দেননি।


> নষ্ট সমাজ

> প্রবাল ভৌমিক 

> ০৯ জুলাই ২০২০

Post Comment

Saturday, May 30, 2020

ঢল বল তল


অবশেষে আপনিও গা ভাসালেন ঢলে?
যোগ দিলেন তাদের দলে?
দেখেতো আমি অবাক
খবরদার, হবেন না সবাক।
আছি আছি নাই নাই এভাবে চলে
দিন পার করে দিন অকারণ ছলে।

'কেন ভাই? সবাই তো ভালো লোক
আমিও চাচ্ছি ভালো কিছু হোক।'

ভাই, আপনি সরল বড্ড
কিছু বুঝেন? পুড়ে হবেন দগ্ধ।
আপনার কি কোন শুভাকাঙ্ক্ষী নাই?
আমায় এখনো আপন ভাবেননি তাই।
শুনুন তবে বলছি আমি সবিস্তার
হয়তো এতে পেতে পারেন নিস্তার।

'কেন ভাই? সবাই তো যোগ্য লোক
এদের হাত ধরেই কিছু পরিবর্তন হোক।'

পালের গোদাটাকে চিনেন?
এসব করেই নিজের পরিচিত কিনেন।
বলতে পারিনা কিছু
এককালে জ্ঞানার্জনে নিয়েছি তার পিছু।
তখন না হয় জ্ঞানের সংকট ছিল আমার
এখন আমি মহামানব, কম নাকি তার?

'কেন ভাই? সবাই তো সামাজিক লোক
এদের সাথে থেকে ভালো কিছু হোক।'

অন্যদের কথা আর বলবো কি?
সবই তো পান্তা ভাতে ঘি।
এককালে কিছু ছিল আমার সখা
অল্প দোষ করেছি, এতে এতো বকাঝকা?
আর কিছু পালের গোদার সারথি
কি বলবো, কতদিন চলবে এ আরতি?

'কেন ভাই? সবাইতো প্রিয় লোক
তাদের এ প্রচেষ্টা সফল স্বার্থক হোক।'

হবে না, হবে না
তারা আমার খবর জানে না।
লাগিয়ে দেব গিট্টু
পাবেনা টের ইট্টু।
গোপগাথায় ভরবো নতুন বাগান
তাদের দল ভেঙে করবো খানখান।

'কেন ভাই? আপনি ধন্দে ফেলেন লোক?
তবে কিছু দিন নীরব থেকে যাচাই-বাছাই হোক।'

Post Comment

স্বার্থপরতা


করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এক জাপানি ব্যক্তি করোনাভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বার ও হোটেলে ঘুরে বেড়িয়েছেন। জাপানের গামাগোরির শহরে এ ঘটনা ঘটেছে। তার বক্তব্য ছিল- একা মরবো কেন? এটি স্বার্থপরতার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

স্বার্থপরতার আভিধানিক অর্থ হলো- অপরের ইষ্টানিষ্টের কথা না ভেবে স্বকার্য সাধনে তৎপরতা। ইষ্টানিষ্ট এর আভিধানিক অর্থ হলো- ভালোমন্দ। অর্থাৎ অন্যের ভালোমন্দ না ভেবে শুধুমাত্র নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করা। অন্যকথায়, যে কোন কিছুর বিনিময়ে নিজের স্বার্থ বা লাভ নিশ্চিত করা।

এখন আমরা যদি ভেবে দেখি, আমরা সবাই কি স্বার্থপর নই? আমার ধারণা, ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে আমরা সবাই স্বার্থপর। তবে এতে হয়তো আপেক্ষিকতা বিদ্যমান। কারো কারো স্বার্থপরতা তীব্র, কারো কারো মৃদু। কারো কারো স্বার্থপরতা নগ্ন, আবার কারো স্বার্থপরতায় রাখঢাক বিরাজমান।

যেমন ধরা যাক, আমরা কোন একটি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেলাম। ঐ প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন থেকে অনেক কিছু শিখলাম, নিজেকে সমৃদ্ধ করলাম। অর্থাৎ সংগঠন থেকে যা যা নেওয়ার ও পাওয়ার, সবকিছু নিলাম ও পেলাম। কিন্তু যখনই সংগঠনের জন্য কিছু করার বা সংগঠনকে কিছু দেওয়ার সময় এলো, তখনই আমরা তুলনামূলক ভালো প্যাকেজে বা ভালো অফারে অন্য প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সাথে নিজেকে যুক্ত করলাম। আমাদের চলে যাওয়াতে ওই প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের কোন ভালো বা মন্দ ঘটলো কিনা তা দেখার বা ভাবার নূন্যতম ইচ্ছাও আমরা পোষণ করি না, শুধু নিজেদের স্বার্থ বা লাভটাই দেখি। এমনটা অহরহ ঘটছে। প্রায় সকল স্তরের লোক এ ধরনের ঘটনার সাথে অর্থাৎ স্বার্থপরতার সাথে যুক্ত।

কিংবা, যেখানে বিদ্যুৎ বা পানি ব্যবহারের প্রকৃত বিল আমাদের বহন করতে হয় না, সেখানে আমরা অবিবেচক হয়ে যাই; অপচয় করি। এই বিল যে অন্য কাউকে পরিশোধ করতে হবে তা আমরা বেমালুম ভুলে যাই। প্রকৃত বিল পরিশোধ না করার সুযোগ থাকায় মহামূল্যবান প্রাকৃতিক গ্যাস দিয়ে কাপড় শুকানো বা একটি মাত্র দেশলাইয়ের কাঠি বাঁচানোর আশে ঘন্টার পর ঘন্টা গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখা কি স্বার্থপরতা নয়?

লোকাল বাসে উঠার সময় আমরা কয়জনই নিজেকে স্থির রাখতে পারি? শুধুমাত্র একটা সিট পাওয়ার আশায় বাহুবলে ধাক্কা দিয়ে অন্যকে গাড়ির চাকার নিচে ফেলে দিতেও আমরা দ্বিধা বোধ করি না।

আমাদের স্বার্থপরতার কোটি কোটি উদাহরণ আছে। এসব আমাদের সবারই জানা আছে। আমি যে তিনটি উদাহরণ দিলাম, তা নিতান্তই সাধারণ ও অতিপ্রচলিত কিছু ব্যাপার। অনেকে হয়তো এসবকে এখন আর স্বার্থপরতা হিসেবে ধরেই না। স্বার্থপরতার সংজ্ঞায় যারা অজ্ঞ, তারাও স্বার্থপরতার চর্চায় বেশ পটু। আমরা নিজেরা যখন অন্যের প্রতি স্বার্থপর হই, তখন আমরা কাকের মতো চোখ বন্ধ করে রাখি। কিন্তু অন্য কেউ যখন আমাদের প্রতি স্বার্থপর হয়, তখন আমাদের নৈতিকতা বোধ প্রকটভাবে জেগে উঠে; আমরা গলা বড় করি ও অন্যদের স্বাক্ষী করি। এই স্বার্থপরতার বন্যায় বর্তমান সমাজে স্বার্থহীন লোক খুঁজে পাওয়া দুস্কর; যাও দু'একজন আছেন তারাও 'সোজা' উপাধি প্রাপ্ত হয়ে কোনরকমে টিকে আছেন।

একজন চেতনা ব্যবসায়ীর কাহিনী শুনলাম কয়েকদিন আগে। এই করোনা-কালে মাথায় কিছুটা কু-বুদ্ধি খাটিয়ে তিনি লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করেছেন। উনার পদ্ধতিটি দ্বিমুখী। কূটকৌশল কাজে লাগিয়ে তিনি দুটি গ্রুপ টার্গেট করেছেন। করোনার প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদের সহযোগিতা করার লক্ষ্যে এক গ্রুপ থেকে তিনি অনার্থিক সহযোগিতা গ্রহণ করেছেন। যেমনঃ বিভিন্ন ধরনের খাদ্যদ্রব্য, জীবানু নাশক, সুরক্ষা সামগ্রী ইত্যাদি। এই পন্যগুলো তিনি ঘটা করে ছবি তুলে, প্রচারণা চালিয়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদের কাছে বিতরণ করেছেন। এরপর এ-সব পণ্য বিতরণের ছবি ও বিভিন্ন দালিলিক প্রমাণ নিয়ে তিনি গেছেন দ্বিতীয় গ্রুপের কাছে; যাদেরকে ফ্রিতে পাওয়া এই সব পণ্যসামগ্রী তার নিজের টাকায় কিনে বিতরণ করেছেন বুঝিয়ে, নিজের হাতে তৈরি করা ভুয়া ভাউচার জমা দিয়ে তাদের কাছ থেকে আদায় করেছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। দেখুন, আমরা কত বড় স্বার্থপর হতে পারি। এটি তার প্রত্যক্ষ স্বার্থপরতা। কিন্তু এখানে আরেকটা দল আছে যারা ব্যাপারগুলো জানে কিন্তু কমিশনের কাছে নিজেকে বিক্রি করে। এরা পরোক্ষ স্বার্থপর।

স্বার্থপরতার উদাহরণ দিয়ে শেষ করা যাবে না। স্বার্থপরতা এড়িয়ে চলতে পারা এখন এক বড় সাধনা ব্যাপার।

Post Comment

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়


শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় নামটির সাথে আমার প্রথম পরিচয় ১৯৯৫ সালের দিকে। তখন আমি ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি আসতো আমাদের বিদ্যালয়ে, মাসে সম্ভবত দু'বার। প্রতিবার দুটি করে বই পেতাম পড়ার জন্যে। খুব আনন্দ নিয়ে পড়তাম বইগুলো। পাঠ্যবইয়ের বাইরে অন্য বই পড়াতে তখন অভিভাবক ও শিক্ষকগণ আমাদের উৎসাহিত করতেন। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি থেকেই একবার একটা বই পেয়েছিলাম 'ঝিন্দের বন্দী', লিখেছেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। এটি একটি উপন্যাস। খুব আনন্দ পেয়েছিলাম বইটি পড়ে।

একই সাথে বন্ধুত্ব, প্রেম, রহস্য, এডভেঞ্চার ও ট্রাজেডি নির্ভর এই উপন্যাসের কাহিনী মধ্যভারতের ছোট্ট রাজ্য ঝিন্দ-কে কেন্দ্র করে। ঐ রাজ্যের রাজার মৃত্যু হলে সিংহাসন নিয়ে রাজার দুই পুত্র শংকর ও উদিতের দ্বন্দ হয়। রাজা হওয়ার জন্য মনোনীত শংকর শপথ গ্রহণের কয়েকদিন পূর্বে হঠাৎ নিঁখোজ হয়ে যায়। বিশ্বস্ত রাজকর্মীরা বিপাকে পড়ে গিয়ে কি করবেন ভেবে যখন কিংকর্তব্যবিমুঢ় ঠিক তখনই তারা সন্ধান পান গৌরি নামক এক বাঙালি যুবকের, যার চেহারা হুবুহু হারিয়ে যাওয়া শংকরের মতো। উদিতের হাত থেকে রাজ্যকে রক্ষা করতে রাজকর্মীরা গৌরী কে শংকর হিসেবে উপস্থাপন করে ঐ রাজ্যের রাজা বানায়। কিন্তু উদিত ব্যাপারটা মেনে নিতে নারাজ কারণ শংকর প্রকৃতপক্ষে নিঁখোজ ছিল না বরং বন্দী ছিল। এভাবে বিভিন্ন নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে 'ঝিন্দের বন্দী' উপন্যাসের কাহিনী। উপন্যাসটি আমার কোমল মনে দাগ কাটতে সক্ষম হয়েছিল এবং শরবিন্দু বাবুর চমৎকার লিখন শৈলীতে আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম। পরবর্তীতে জানতে পারি এই উপন্যাসের কাহিনী নিয়ে 'ঝিন্দের বন্দী' নামেই চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়েছিল ১৯৬১ সালে, যাতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন কিংবদন্তি অভিনেতা উত্তম কুমার। আবার ২০১৫ সালে সালমান খান অভিনীত বলিউড চলচ্চিত্র 'Prem Ratan Dhan Payo' - এর কাহিনীও মূলতঃ 'ঝিন্দের বন্দী' উপন্যাস হতে নেওয়া হয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে। তবে এ চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কোন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে কিনা আমার জানা নেই।

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ১৮৯৯ সালের ৩০ মার্চ উত্তরপ্রদেশের জৌনপুর শহরে। তিনি কলকাতায় বিদ্যাসাগর কলেজে আইন নিয়ে পড়াশুনো করেন। পড়াশুনোর সাথেই তিনি সাহিত্য চর্চাও করতেন। তাঁর রচিত প্রথম সাহিত্য প্রকাশিত হয় মাত্র ২০ বছর বয়সে। সাহিত্য চর্চাই ছিল তাঁর প্রধান নেশা, পাশাপাশি ১৯৩৮ সালে বম্বের 'বম্বে টকিজ' এ চিত্রনাট্যকাররূপে কাজ শুরু করেন।

'কালের মন্দিরা', 'গৌর মল্লার', 'তুমি সন্ধ্যার মেঘ', 'তুঙ্গভদ্রার তীরে',  'জাতিস্মর', 'বিষের ধোঁয়া' ইত্যাদি উপন্যাস তাঁর অমর সৃষ্টি। ছোটগল্প ও শিশুসাহিত্য রচনাতেও পারদর্শী ছিলেন। তবে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় সৃষ্ট সবচেয়ে জনপ্রিয় চরিত্র হল ব্যোমকেশ বক্সী। ব্যোমকেশ একজন ডিটেকটিভ। নিজেকে তিনি সত্যান্বষী বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন। তাঁর রচনা অনুসারে 'ব্যোমকেশ বক্সী' চরিত্রটি বিভিন্ন সময় কমিকস আকারে প্রকাশিত হয়েছে এবং বিভিন্ন সময় এ চরিত্র চিত্রায়ণ হয়েছে; যে চরিত্রে উত্তম কুমার, সুদীপ মুখোপাধ্যায়, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, যীশু সেনগুপ্তসহ বিভিন্ন খ্যাতনামা অভিনেতাগণ অভিনয় করেন।

ভাবী, বচন, দুর্গা, কঙ্গন, নবজীবন, আজাদ, পুনর্মিলন— এই সাতটি বম্বের ছবির গল্প লিখেছিলেন শরবিন্দু। তিনি ইংরেজিতে লিখতেন, যা হিন্দিতে অনুবাদ করে নেওয়া হতো। দুর্গা (১৯৩৯), কঙ্গন (১৯৩৯), নবজীবন(১৯৩৯) ও আজাদ (১৯৪০) চলচ্চিত্রগুলোর চিত্রনাট্যকার ছিলেন শরবিন্দু। তাঁর লেখা 'চিড়িয়াখানা', 'ঝিন্দের বন্দী', 'বিষের ধোঁয়া', 'দাদার কীর্তি', 'মরু ও সঙ্ঘ' উপন্যাসসমূহের কাহিনী অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার, শরৎস্মৃতি পুরস্কার, মতিলাল পুরস্কার প্রভৃতি পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৭০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ভারতের মুম্বাইয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়।

Post Comment

এক বিকেলের গল্প


বাইরে মূষল ধারে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, সাথে বজ্রপাত। ছোট্ট কিশোর গুটিশুটি মেরে তার বাবার কোলে বসে আছে। বারান্দায় আরামকেদারায় বসে বৃষ্টি দেখা বাবুল সাহেবের দীর্ঘদিনের অভ্যেস। বিশেষ করে ছুটির দিনে বৃষ্টি হলে আর কোন কথাই নেই; বাবুল সাহেব রবী ঠাকুরের গান চালিয়ে দিয়ে আরামকেদারা বিছিয়ে বারান্দায় বসে পড়েন। মিসেস বাবুল পেঁয়াজ কেটে মুড়ি-চানাচুর মেখে দেন, সাথে অল্প পাতা দিয়ে রং চা। আগে এ সময়টা বাবুল সাহেব একা কাটাতে পছন্দ করতেন। তবে ইদানীং পাঁচ বছর বয়সী কিশোর তাঁর সঙ্গী হয়। বাবুল সাহেবের খারাপ লাগে না। একসময় উঠোনে পড়তে থাকা বৃষ্টির ফোঁটার দিকে নিঃশব্দে তাকিয়ে থেকে তিনি যে আনন্দ উপভোগ করতেন, আজকাল বৃষ্টির ছন্দে ছন্দে অবুঝ কিশোরের হাজারো প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে তিনি যেন একই আনন্দ উপভোগ করেন। জন্মের পর থেকে দূর্ভাগা কিশোরই তো তাঁর সব। প্রথম প্রথম ছেলেটার দিকে তাকালে পানিতে চোখ ভিজতো বাবুল সাহেবের। এখন অনেকটাই সয়ে গেছে। তিনি তো সাধ্যের বেশি চেষ্টা করে যাচ্ছেন, বাকিটা সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা। স্বাভাবিকভাবেই কিশোরের সাথে আচরণ করেন পরিবারের সবাই, যাতে তার মনে কোন নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।

বাবুল সাহেবের একা বাড়ি। মফস্বল শহরের পাকা রাস্তার পাশেই একতলা দালান ঘর। চারপাশে সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা বাড়ির উঠোনটা বেশ বড়। বাড়ির বাসিন্দা মাত্র চার জন। মিস্টার ও মিসেস বাবুল, তাঁদের একমাত্র সন্তান কিশোর এবং বাবুল সাহেবের বৃদ্ধা মা। বাবুল সাহেবের বাবা চাঁন মিয়া গত হয়েছেন বছর চারেক আগে। মূলতঃ তিনিই এ বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। একসময় চাঁন মিয়া স্ব-পরিবারে গ্রামের বাড়িতে বাস করতেন। এগার জন ভাইবোনের মধ্যে চাঁন মিয়া ছিলেন পঞ্চম। ছোট বাড়িতে খুব আটসাঁট জীবন যাপন ছিল তাঁদের। মেধাবী শিক্ষার্থী চাঁন মিয়া এইচএসসি পাশ করেই ভূমি অফিসে 'অফিস সহকারী' পদে চাকরি পেয়েছিলেন। আরো লেখাপড়া করার ইচ্ছে থাকলেও বাস্তবতার নিরিখে তা আর হয়ে উঠে নি। চাকরির শুরু থেকেই খুব হিসেবী জীবন যাপনের ফলস্বরুপ এই জায়গা কেনার সামর্থ্য অর্জন করেছিলেন চাঁন মিয়া। চাঁন মিয়ার মা-বাবা মারা যাওয়ার পর ভাগের যৎসামান্য স্থাবর সম্পত্তি মেজো ভাইয়ের কাছে বিক্রি করে স্ব-পরিবারে নিজের কর্মস্থল এই মফস্বল শহরে পাড়ি জমান চাঁন মিয়া। বেড়ার ঘেড়া ও টিনের ছাউনি দেওয়া ছোট্ট একটা ঘর তৈরি করে তাতেই পরিবার সহ বসবাস করা শুরু করেন চাঁন মিয়া। বাবুল সাহেব তখন চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরবর্তীতে নিজের কষ্টার্জিত টাকায় আস্তে আস্তে এই জায়গার উপর একতলা দালানটি নির্মাণ করেন চাঁন মিয়া।

আজকের বৃষ্টিটা বাবুল সাহেবের কাছে উপভোগ্য মনে হচ্ছে না।  বৃষ্টির ছন্দ আজ যেন বিরহের সুর তুলেছে। কিছুক্ষণ পরপর দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসছে তাঁর বুকের গভীর থেকে। চিরচেনা উঠোনের দিকে তাকিয়ে চোখ ঝাপসা হয়ে উঠে। তাঁর শৈশব, কৈশোর, যৌবন কেটেছে এই উঠোনে, এই বাড়িতে। কত স্মৃতি চোখের কোনে ভেসে উঠতে লাগলো। শীতের সকালে এই উঠোনে বসে রৌদ পোহাতে পোহাতে ভাপা পিঠার সাথে খেজুরের রস, গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরে বাবার সাথে গামছা বিছিয়ে এই উঠোনে গাছের ছায়ায় শুয়ে থাকা, বর্ষাকালে মায়ের কড়া শাসন ফাঁকি দিয়ে এই উঠোনে বৃষ্টিতে ভেজা, নীলুর সাথে প্রথম দেখাটাও এই বাড়িতেই, কিশোরের জন্ম; যেন এক সপ্তাহ উৎসব ছিল এই বাড়িতে, এই বাড়ির প্রতিটি দেয়াল; প্রতিটি মাটির কনা; প্রতিটি গাছ-গাছালি তাঁর চিরচেনা, কোথাও বেড়াতে গেলে কোনরকমে এক রাত থেকেই আবার ফিরে আসতেন এই বাড়ির মায়ায়, কখনো হাসি; কখনো দুঃখ; কতশত ঘটনা প্রবাহের নিরব স্বাক্ষী এই ভবন; এই উঠোন; এই বাড়ি, বাবার লাশটাও অন্তিম যাত্রায় রওনা হয়েছিল এ বাড়ির উঠোন থেকে- বাবুল সাহেব আর ভাবতে পারেন না। তার বুকটা খুব ভারী হয়ে গেছে। এবার তিনি তাকালেন কিশোরের দিকে৷ ছেলেটা নির্ভাবনায় তাঁর কোলে বসে উঠোনে হাঁসের জলকেলি দেখছে। বাবুল সাহেব বুক ভরে একটা নিঃশ্বাস নিলেন। নিজের আবেগ সংবরণ করার চেষ্টা করলেন। মনে মনে ভাবলেন, তিনি অবশ্যই ঠিক করছেন। অধিক গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ রক্ষায় অল্প গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ বিসর্জন দিতেই হয়, এটিই জগতের নিয়ম।

বৃষ্টি থেমে গেছে। সূর্যটা ডুবে যাওয়ার আগে শেষ বিকেলের আভা ছড়াচ্ছে। বাবুল সাহেব বারান্দা হতে আস্তে আস্তে শোবার ঘরে প্রবেশ করলেন। কিশোর চলে গেলো তার দাদির ঘরে। মিসেস বাবুল শেষ বারের মতো দেখে নিচ্ছেন কিছু রয়ে গেল কিনা। ট্রাক বলা হয়ে গেছে। কাল সকালেই ট্রাক আসবে, মালপত্র সব নিয়ে যেতে যেতে দুপুর হয়ে যাবে; এরপর হাজারো মায়ার বন্ধন ছিন্ন করে, চিরচেনা এই বাড়ি ছেড়ে স্ব-পরিবারে বাবুল সাহেব চলে যাবেন পাশের মহল্লার তিন রুমের ভাড়া বাড়িতে। বাবুল সাহেব নিরূপায়। শিক্ষকতার সীমিত আয়ে এতো টাকা জোগাড় করার মতো আর কোন পথই যে খোলা ছিল না তাঁর সামনে! বাড়ির নতুন মালিক কি তাঁদের স্মৃতিচিহ্নগুলো ধরে রাখবেন? কেন রাখবেন? চোখের কোনে আবার জল জমতে লাগলো বাবুল সাহেবের।

বিমানের টিকিট নিশ্চিত করা হয়েছে। বাবুল সাহেব ও কিশোর যাবে। মিসেস বাবুল বাসাতেই থাকবেন। বৃদ্ধা শাশুড়িকে একা রেখে তাঁর পক্ষে স্বামী-সন্তানের সঙ্গী হওয়া সম্ভব নয়। আগামী শনিবার ঢাকা থেকে ফ্লাইট। দেশে অনেক চিকিৎসা করিয়েছেন কিন্তু ছোট্ট কিশোরের হার্টের ছিদ্রটা দিনদিন বড় হয়ে যাচ্ছে; সুচিকিৎসার জন্য চেন্নাই যাওয়ার আর কোন বিকল্প নেই। বাবুল সাহেব মোবাইল ফোনটা হাতে নিয়ে ট্রাকের ড্রাইভারকে ফোন দিলেন।

Post Comment

Thursday, April 30, 2020

এলোমেলো_ভাবনা


সাগর ও পাহাড় প্রকৃতির দুই অপরূপ সৃষ্টি। দুটিই মানুষকে অনেক গভীরভাবে আকৃষ্ট করে। হয়তো এই সাগর- পাহাড় আছে বলেই মানুষ আজো যন্ত্র হতে হতে মানুষ রয়ে গেছে। সাগর ও পাহাড় মানুষের মাঝে কবিত্ব জাগিয়ে তোলে। তাদের নিয়ে লেখা হয়েছে অজস্র গান ও কবিতা।

জীবনে পুকুরে না নামা ছেলে বা মেয়েটিও সাগরের শুভ্র ফেনীল জলরাশির আকর্ষণ অস্বীকার করতে পারে না। আবার সবচেয়ে চঞ্চল মানুষটিও সাগরের পাড়ে বসে অসীম জলরাশির হিসেব মিলাতে মিলাতে কাটিয়ে দিতে পারে ঘন্টার পর ঘন্টা।

তেমনি পাহাড় মানুষের মুক্ত চিন্তাকে জাগিয়ে তোলে, করে সৃজনশীল। পাহাড়ের বৃক্ষ সুশোভিত আলো-ছায়াময় সর্পিল পথে হেঁটে কেউ কি কখনো ক্লান্ত হয়? পাহাড়ি ঝর্ণার ছন্দময় গান হাজার একঘেঁয়েমি দূর করে মানুষকে করে তোলে তৃণসজীব।

কি জানি! সমতলের বুকে নিরন্তর বসবাসে কারণেই হয়তো আমরা সমতলবিমুখ!

Post Comment

সবুজ ও হলুদ


সহাস্য বদনে সবুজ প্রবেশ করলো হলুদের দফতরে
লম্বা সেলামে বিগলিত হলুদ বসাল তারে সম্মুখের আসনে।
বুঝলেন সবুজ সাব,
মাঠে ঘাস চাষে উনারা করছে আবদার।
না স্যার, না স্যার। করবেন না এমন ভুল
চীনা জোঁকে রক্ত চুষবে, ভীমরুল ফোটাবে হুল।

মুখে হাত দিয়ে হলুদ সাব ধরলো বিজ্ঞ ভাব
সবুজ সাব পাশে না থাকলে কে ঘুছাতো এমন অপবাদ!
সবাই শুধু ঘাস ঘাস ভাবলো, গরুর মতো ভাবনা
চীনা জোঁক আর ভীমরুলের কথা কারো মাথায় আসলো না!
আসবে কি করে? জোঁক, ভীমরুল সেতো শুধুই একজন-
হ্যাঁ, তিনি সবুজ সাব। মিঠা কথায় চুষে চুষে তৈরি করে স্বজন।

তারা এসেছিল, হলুদ সাব বলে, তারা বসার জায়গা চায়
আমি বলে দিয়েছি অস্থায়ী বন্দোবস্ত, স্থায়ী সুবিধা নাই।
আসল কথা বলি নাই তাদের, রেখে দিয়েছি ফাঁক
সবুজ সাব, আপনার পরামর্শ ছাড়া আমি চলি কি এক হাত?
স্যার, করেতো ফেলেছেন ভুল
খাল কেটে কুমির আনছেন, দিতে হবে মাশুল।

এখন আপনি রাজা, আমি মন্ত্রী; উজির-নাজির নাই
যা বলি তা হয় আইন, বিনা মেঘে সুখ যে তরী বায়।
যখন আসবে তারা জানবে সারা, আর কি হবে রক্ষে?
উল্টো বাতাস বইবে পালে, পকেট নাহি ভরবে।
সবুজ সাবের কথায় আবার মুখে গেল হাত
বিজ্ঞ হলুদ ভেবে আকুল, সবুজ সাব না থাকলে কি যে হতো তার।

এতো বড় মাঠের কি দরকার? বদমায়েশের দল খেলে খেলে
দরজা জানালা সব ভেঙে করছে ছারখার, সবুজ সাব কয়।
সত্যি বলেছেন আমিও ভাবছি তা, সরকারের দোহাই দিয়ে
গাছ লাগিয়ে দখল নিলে যদি তাদের শিক্ষা হয়।
মাঠের কোন দরকার নেই, খেলাধুলায় কি হয়?
জ্ঞানের চাষ করবো আমরা, এতেই ভালো ব্যবসা হয়।

এমন হাজার সবুজ- হলুদ 'সাব' সেজে আমাদের মাঝে
ভাবের রাজ্যে ভাবনা ভেবে প্যারাসিটামলে ক্যান্সার রোধ করে!
তাদের মুখে উপদেশ বাণী, বুকে সমাজ গড়ার প্রত্যয়!
জেনে রেখো সব প্রহসন, শুধু লভ্যাংশের ভাবনাটা অক্ষয়।
তবুও সমাজ রয়েছে বেঁচে আপন মহিমাগুনে,
ঈশ্বর তোমাদের করবেন বিচার, হে অমানুষের দল; রেখো জেনে।

Post Comment